
শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা থানা ভবনের ঠিক পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক ডাকবাংলোটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এক সময়ের জমজমাট ও গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি আবাসনটি এখন লতাগুল্মে ছেয়ে গিয়ে এক ‘ভূতুড়ে বাড়িতে’ পরিণত হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতায় ভবনটির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা। চুরির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না ভবনের মূল্যবান দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রাতের আঁধারে এটি এখন অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়: বাংলোটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে জরাজীর্ণ। মূল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ধুলোবালি আর ভাঙা আসবাবপত্রের স্তূপ। জানালার কাচ ও গ্রিল অনেক আগেই হাওয়া হয়ে গেছে। ছাদ বেয়ে পানি পড়ায় দেয়ালগুলোতে শ্যাওলা জমেছে। অথচ, উপজেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দুতে এবং থানার এত কাছে হওয়ায় এই বাংলোটি ডুমুরিয়ায় আসা সরকারি কর্মকর্তা, ভিআইপি অতিথি এবং পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি আবাসন কেন্দ্র হতে পারত।এই বিষয়ে আমরা কথা বলেছিলাম স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে। তাদের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য: স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু তালেব বলেন:”এই ডাকবাংলোর সাথে ডুমুরিয়ার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। একসময় সরকারি বড় অফিসার বা ভিআইপিরা আসলে এখানে থাকতেন। থানার পাশেই এত সুন্দর একটা সম্পদ এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা ভাবা যায় না। ঝোপঝাড়ের কারণে এখন দিনের বেলাতেও পাশ দিয়ে হাঁটতে ভয় লাগে। আমরা চাই এটা দ্রুত ভেঙে নতুন করে আধুনিক রেস্ট হাউস করা হোক।”ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন:”বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। ডাকবাংলোটি মূলত জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সম্পত্তি। ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি। জেলা পরিষদের প্রকৌশল বিভাগ যদি এটিকে অকেজো বা ‘কনডেমড’ ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, তবে উপজেলা প্রশাসন তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন: ডুমুরিয়া ডাকবাংলোটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা আমরা জানি। জেলার বেশ কিছু পুরোনো ডাকবাংলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য আমরা একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ডুমুরিয়ার এই ডাকবাংলোটি যেহেতু একদম উপজেলা সদরে এবং থানার পাশে, এর গুরুত্ব অনেক বেশি। আমরা খুব দ্রুতই একজন প্রকৌশলী পাঠিয়ে ভবনটির বর্তমান কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করব। সংস্কারযোগ্য হলে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে, আর যদি তা না হয়, তবে পুরোনো ভবনটি নিলামে বিক্রি করে সেখানে একটি আধুনিক ও বহুতল জেলা পরিষদ ডাকবাংলো নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।জনসাধারণের দাবি:ডুমুরিয়ার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রুত এই পরিত্যক্ত ভূতুড়ে পরিবেশ থেকে এলাকাটিকে মুক্ত করা হোক। সরকারি কোটি টাকার এই সম্পত্তি রক্ষা করতে এবং উপজেলার পর্যটন ও প্রশাসনিক সুবিধার্থে এখানে একটি আধুনিক ডাকবাংলো বা রেস্ট হাউস নির্মাণ এখন।।
